নামাজ বেহেস্তের চাবী

মোঃবাহাদুর হোসেন বাদল

Tuesday, January 24, 2017

দিঘীরচালা জামালিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে প্রবাসিদের উদ্যোগে হিফ্জুল কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
টাংগাইলের সকল উপজেলার সকল মাদ্রাসা ও স্কুলের সর্বোচ্চ ষোল বৎসর পর্যন্ত একটি প্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণ করতে পারবে। প্রতিযোগিতা হবে প্রথম পারা থেকে দশম পারা পর্যন্ত এবং ২০ পারা থেকে ৩০ পারা পর্যন্ত।

image-301
প্রবাসিদের উদ্যোগে কোরআন হিফ্জুল প্রতিযোগিতা

প্রথম পুরুষ্কার দেয়া হবে ২৫,০০০/- টাকা। ২য় পুরষ্কার দেয়া হবে ১৫,০০০/- টাকা। ৩য় পুরষ্কার দেয়া হবে ১০,০০০/- টাকা এবং চতুর্থ পুরষ্কার ১০০০/- টাকা করে ৭ জনকে দেওয়া হবে।
ইতি মধ্যে প্রত্যেক ছাত্রদের মধ্যে হিফ্জুল কোরআন প্রতিযোগিতার আবেদন ফরম বিতরণ চলছে। আগামী ৩০ই জানুয়ারি, রোজ সোমবার সকাল ৯:৩০ ঘটিকা থেকে হিফ্জুল কোরআন প্রতিযোগীতা চলবে। অনুষ্ঠানের তারিখ ও সময় ৩০ই জানুয়ারি প্রতিযোগীতা শেষে ফলাফল ঘোষণার পর জানানো হবে। অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীকে নিজ জন্ম নিবন্ধন কাড এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বাক্ষর ও সীলসহ রেজিষ্ট্রেশন ফি ছাড়া নিম্নলিখিত স্থান থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করার পর নির্ভূলভাবে পূরণ করে আগামী ২৫ই জানুয়ারি রোজ বুধবার বিকাল ৪ ঘটিকার মধ্যে নির্দিষ্ট স্থানে জমা দিতে হবে। ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার স্থান:-
image-302
১/ দিঘীর চালা জামালিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, সখিপুর, টাংগাইল। মোবা: সুপার:-০১৭২৬-৬৭৮৩৩৫, সহকারী সুপার: ০১৭১৬-৪৪৮৬৪৮, মাওলানা: ০১৭১৮-৯১৫৩২৯, মাওলানা: ০১৭২৯-৪১২৯৪৭।
২/ গড়গোবিন্দপুর পূর্বপাড়া হাফেজী মাদ্রাসা, সখিপুর, টাংগাইল। মোবাইল: ০১৭৩২-৩০১৮১৭।
৩/ মদিনাতুল উলুম হাফেজী মাদ্রাসা, ধলাপাড়া, ঘাটাইল, টাংগাইল। মোবাইল: ০১৭৩৭৯০০৮৭৬।
৪/ কস্তরীপাড়া হাফেজী মাদ্রাসা, কালিহাতি, টাংগাইল। মোবাইল: ০১৭২৪-০১৪৬০৯। চান্দশী
৫/ দারুল উলুম জামিউস সুন্নাহ্ মাদ্রাসা, ঘাটাইল সদর, টাংগাইল। মোবাইল: ০১৭১৮৮১৩৯৮৭।
৬/  রেজিষ্ট্রিপাড়া কওমি মাদ্রাসা, কালিহাতি, টাংগাইল। মোবাইল: ০১৭১৮-৮১৩৯৮৭।
৭/ টাংগাইল বেবী স্টেশন গোরস্হান কওমী মাদ্রাসা, টাংগাইল সদর। মোবাইল: ০১৮৩০-৬৩৯১১২।

মোবাইলে এস, এম, এস এর মাধ্যমেও রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবেন।

Sunday, November 13, 2016

কাউকে অভিশাপ দেওয়ার ব্যাপারে যা বলছে ইসলাম!


লানত’ বা অভিসম্পাতের অর্থ হলো, আল্লাহর রহমত ও করুণা থেকে দূরে সরে পড়া। যার ওপর আল্লাহর লানত পতিত হয়, সে কখনো আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে না। পরিণতিতে সে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক অপমান-অপদস্থতা অর্জন করে।

যেসব কাজে নেমে আসে আল্লাহর অভিশাপ
রাসুল (সা.) বলেছেন, সুদদাতা, সুদগ্রহীতা, সুদসংক্রান্ত দলিল সম্পাদনকারী ও সুদের লেনদেনের সাক্ষী—সবার প্রতিই আল্লাহর অভিশাপ। (মুসলিম)

অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি লুত (আ.)-এর জাতির মতো (সমকামিতার) অপকর্মে লিপ্ত হবে, সে অভিশপ্ত হবে। (মিশকাত)

অন্য এক হাদিসে এসেছে : আল্লাহ তাআলা লানত করেন মদ্যপায়ীর প্রতি, মদ যে ব্যক্তি পান করায় তার প্রতি, তার বিক্রেতা ও ক্রেতার প্রতি, যে মদের জন্য নির্যাস বের করে তার প্রতি এবং যারা মদ বহন করে—তাদের সবার প্রতি। (মিশকাত)

রাসুল (সা.) এমন পুরুষের প্রতিও লানত করেছেন, যে পুরুষ নারীদের পোশাক পরিধান করে এবং এমন নারীর প্রতিও লানত করেছেন, যে পুরুষের পোশাক পরিধান করে। (মিশকাত)

এ ছাড়া রাসুলে কারিম (সা.) সেই সব পুরুষের ওপর অভিসম্পাত করেছেন, যারা নারীদের মতো আকার-আকৃতি ধারণ করে হিজড়া সাজে এবং সেই সব নারীর ওপরও লানত করেছেন, যারা পুরুষালি আকৃতি ধারণ করে। (বুখারি)

আরেকটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন : ছয় ধরনের লোক আছে, যাদের প্রতি আমি অভিসম্পাত করেছি এবং আল্লাহও অভিসম্পাদ করেছেন। সে
ছয় ধরনের লোক হলো

এক. আল্লাহর কিতাবে যারা কাটছাঁট করে।
দুই. যারা বলপূর্বক ক্ষমতা দখল করে এবং সম্মানিত লোকদের অপমানিত করে আর অপমানিত লোকদের সম্মানিত করে।
তিন. যারা ‘তাকদির’ বা নিয়তিকে অবিশ্বাস করে।
চার. যারা আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃত বস্তুকে হালাল মনে করে।
পাঁচ. বিশেষত কুরাইশ বংশের যারা হারামকে হালাল করে নেয়। ছয়. যারা আমার সুন্নতকে (কটাক্ষ করে) বর্জন করে। (বায়হাকি)

মানুষ মানুষকে অভিশাপ দিতে পারে?
ক্রোধান্বিত ও রাগান্বিত হয়ে অন্যকে অভিশাপ দেওয়া এক শ্রেণির মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিশেষত, গ্রামাঞ্চলে পারস্পরিক ঝগড়া-বিবাদে ‘লানত’ শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। অথচ এক মুসলমান অন্য মুসলমানকে লানত বা অভিশাপ দেওয়া সর্বাবস্থায় হারাম।

এমনকি নির্দিষ্ট কোনো অমুসলিমকেও লানত করা যাবে না, যতক্ষণ না কুফরি অবস্থায় তার মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হবে। এ ব্যাপারে নবী করিম (সা.)-এর বক্তব্য নিম্নরূপ : যে বিদ্রূপ করে, লানত করে ও অশ্লীল কথা বলে, সে মুমিন নয়। (তিরমিজি)

তবে কুফরি অবস্থায় কোনো ব্যক্তির মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত জানা থাকলে তার ওপর লানত করা জায়েজ। যেমন—আবু জাহেল, আবু লাহাব প্রমুখ। (শামি, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৮৩৬)

আবার কারো নাম উল্লেখ না করে এভাবে লানত করা জায়েজ যে জালিমের ওপর কিংবা মিথ্যাবাদীদের ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক।

ইসলামের ধর্মীয় উদারতা ইসলামে ধর্মীয় উদারতা গগনচুম্বী। চাপিয়ে দেওয়ার মতো কোনো বিধান নয় এটি। এর সৌন্দর্যে বিমুগ্ধ হয়ে সবাই তা গ্রহণ করবে—এটাই স্বাভাবিক। ইসলাম এমন এক সর্বজনীন জীবনবিধান, যেখানে নেই কোনো সংকীর্ণতা বা সংঘাত।

এতে রয়েছে উদারতা, বিশালত্ব ও গোটা সৃষ্টির প্রতি অসীম মমত্ববোধ। ইসলাম শুধু মুসলমান নাগরিকদের জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা বিধান করেনি, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব নাগরিকের যথাযথ অধিকার ও নিরাপত্তা বিধান করেছে।

ইসলাম পরমতসহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়, পরধর্মের বা মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে নির্দেশ দেয়। ইসলাম পারস্পরিক সম্প্রীতির সঙ্গে সবার সহাবস্থান সুনিশ্চিত করে।

অন্যের ধর্ম-মতাদর্শকে অবজ্ঞা ও অশ্রদ্ধা করতে ইসলামে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। কোরআনে এসেছে : ‘তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকে, তোমরা তাদের গালি দিয়ো না, নইলে তারাও শত্রুতার কারণে না জেনে আল্লাহকে গালি দেবে।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১০৮)

মানবসমাজে অশান্তি সৃষ্টি, নাশকতা, নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা, সংঘাত, হানাহানি, উগ্রতা, বর্বরতা, প্রতিহিংসাপরায়ণতা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘দুনিয়ায় শান্তি স্থাপনের পর এর মধ্যে বিপর্যয় ঘটাবে না।’

(সুরা : আরাফ, আয়াত : ৫৬)

Friday, June 24, 2016

আমরা টাংগাইল বাসী অনলাইন গ্রুপ


আগামীকাল ২৪/৬/২০১৬ রোজ শুক্রবার গ্রুপের ইফতার পার্টি ও দরিদ্রদের মাঝে কাপড় বিতরণ উনুষ্টানে সকল সদস্য ও এডমিন ও অভিভাবক সকলের   উপস্থিতি কামনা করছি।

Wednesday, June 15, 2016

ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ প্রদানঃ

পরম করুনাময় আল্লাহ্ তা'আলার নামে শরু করছি।
দরুদ সালাম বর্ষিত হোক আহমদ মোস্তফা মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর, তার বংশধরদের উপর।
www.bahadurhossen24.com
ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ প্রদানঃ
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতু।
আমাদের সমাজে অনেক লোককেই দেখা য়ায় ভল কাজের আদেশ করে কিন্তু মন্দ কাজের নিষেধ করতে সাহস পায় না। তাদের সম্পর্কে আমার এই লেখাটা। তো চলুন আর দেরি না করে শুরু করা যাকমহান আল্লাহ্ তা'আলা এরশাদ করেনঃ
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللّهِ
"দুনিয়ার সর্বোত্তম দল তোমরা, যাদেরকে মানুষের হেদায়াত ও সংস্কার বিধানের জন্য কর্মক্ষেত্রে উপস্হিত করা হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের আদেশ কর, অন্যায় ও পাপ কাজ হতে লোকদের বিরত রাখ এবং আল্লাহর উপর ঈমান রক্ষা করে চল"।(সূরা আল ইমরান-১১০)
আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা'আলা অন্যত্র বলেনঃ
وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُوْلَـئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
"তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক থাকতে হবে, যারা নেকি ও মঙ্গলের দিকে ডাকবে, ভাল ও সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং পাপ ও অন্যায় কাজ হতে বিরত রাখবে। যারা এই কাজ করবে তারাই সার্থকতা পাবে"। (সূরা আল ইমরান-১০৪)
আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন মন্দ কাজ হতে দেখবে, সে যেন তা হাত দ্বারা রোধ করে, হাত দ্বারা রোধ করার শক্তি না থাকলে, জিহ্বা দ্বারা, তারও শক্তি না থাকলে, সে কাজকে অন্তরে ঘৃনা করবে। আর এটা ঈমানের দুর্বলতম অবস্হা"। (মুসলিম)
হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্নিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "সেই আল্লাহর শপথ যার হাতে আমার প্রান! তোমরা অবশ্য অবশ্যই ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ প্রদান কর, অন্যথায় তোমাদের উপর আযাব প্রেরণ করা হবে তখন তোমরা আল্লাহকে ডাকলেও তোমাদের ডাকে সাড়া দেওয়া হবে না"। (তিরমিযী)
আবু বাকার সিদ্দীক (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাঃ) কে বলতে শুনেছি।তিনি বলেছেন, "মানুস অত্যাচারীকে দেখা সত্যেও যদি তার হস্তদ্বয় ধরে তাকে অত্যাচার করা থেকে বিরত না রাখে, তাহলে সকলেই আল্লাহর আযাবের শিকার হবে"। (আবু দাউদ, তিরমিযী, ও নাসায়ী)

উক্ত আয়াত ও হাদীস সমুহের নির্দেশনাবলীঃ

১। ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ প্রদান করা সাফল্যের উপকরন।
২। যে ব্যক্তি কোন মন্দ কাজ হতে দেখবে, সাধ্যানুসারে বাধা প্রদান করা তার উপর ওয়াজিব।
৩। সাধ্যবান ব্যক্তির হাত দ্বারা বাধা প্রদান করবে, যেমন বাড়িতে পিতা অথবা শ্বাসক অথবা শ্বাসক কর্তৃক নিযুক্ত কোন ব্যক্তি।
৪। ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ প্রদান না করা, দোয়া কবুল না হওয়া এবং আল্লাহর আযাবের কারন।

Thursday, June 9, 2016

কোরআন ও হাদীসে হালাল-হারাম।

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতু।
সমস্ত প্রসংশা মহান আল্লাহ তা'আলার জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক প্রিয় নবী আহমদ মুস্তফা, মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ) এর উপর, বংশধর ও সহচরদের উপর।
আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা পবিত্র কোরানে বলেনঃো
 يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُواْ مِمَّا فِي الأَرْضِ حَلاَلاً طَيِّباً
"হে মানব জাতি! তোমরা পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তসামগ্রি ভক্ষণ কর"। (সূরা বাকারা- ১৬৮)
আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র বলেনঃ

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُلُواْ مِن طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَاشْكُرُواْ لِلّهِ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ
"হে মুমিঙ্গন আমি তোমাদেরকে যেসব পবিত্র বস্তসামগ্রী রুযী হিসাবে দান করেছি তা হতে ভক্ষণ কর এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় কর"। (সূরা বাকারা- ১৭২)
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেনঃ
إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللّهِ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلاَ عَادٍ فَلا إِثْمَ عَلَيْهِ إِنَّ اللّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
"তিনি তো তোমাদের জন্য উপর হতে নিক্ষিপ্ত মৃত জন্ত, রক্ত, শূকরের মাংশ, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে যবেহকৃত প্রানী হারাম করেছেন। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানি ও সীমা লংঘনকারি না হয়, তার জন্য তা ভক্ষণ করাতে কোন পাপ নেই। নিশ্চয় মহান আল্লাহ তা'আলা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু"। (সূরা বাকারা-১৭৩,সূরা নাহল- ১১৫)
আল্লাহ আরো বলেনঃ
قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَن تُشْرِكُواْ بِاللّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَن تَقُولُواْ عَلَى اللّهِ مَا لاَ تَعْلَمُونَ "হে নবী! তুমি তাদের বলে দাও, আমার পালনকর্তা তো কেবলমাত্র অশ্লীল নির্লজ্জ বিসয়সমূহ হারাম করেছেন। যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য এবং হারাম করেছেন গুনাহের কাজ, অন্যায়-যুলুম, আল্লাহর সাথে এমন জিনিসকে অংশীদার করা যার কোন প্রমান অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর প্রতি এমন কথা আরোপ করা যা তোমরা জান না"। (সূরা আরাফ-৩৩)
আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা'আলা আরো বলেনঃ
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجِكَ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ "হে নবী! তুমি কেন সেই জিনিস হারাম করো যা আল্লাহ্‌ তুমার জন্য হালাল করেছেন। (তা কি এই জন্য যে) তুমি তোমার স্ত্রীদের সন্তোষ পেতে চাও? আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু"। (সূরা তাহরীম- ১)

রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "মানব জাতীর কাছে এমন একটি সময় আসবে যখন মানুষ কামাই-রোজগারের ব্যাপারে হালাল হারামের কোন বাচ-বিচার করবেনা" (বুখারী)
হালাল-হারাম

হযরত জারির (রাঃ) হতে বরনিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "যে শরীরের গোশত হারাম খাদ্যদ্বারা গঠিত হলো, তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না"। (বায়হাকী, আহমদ) 

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "হারাম পথে উপার্জন করে বান্দা যদি তা দান করে দেয় তবে আল্লাহ সে দান কবুল করবেন না। প্রয়োজন পূরণের জন্য সে সম্পদ ব্যয় করলে তাতেও বরকত হয় না। সে ব্যক্তি যদি সেই (হারাম) সম্পদ রেখে মারা যায় তাহলে তা তার জাহান্নামে যাওয়ার পাথেয় হবে। আল্লাহ অন্যায় দিয়ে অন্যায় মিটান না। বরং তিনি নেক কাজ দিয়ে অন্যায় কে মিটিয়ে থাকেন"। (মিশকাত)।

 রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "কোন একজন ব্যক্তি দু'হাত আকাশের দিকে উত্তলন করে দোয়া করে বলে, হে আল্লাহ! হে আল্লাহ! অথচ তার খাদ্য,পানীয় ও লেবাস-পোষাক সব কিছুই হারাম উপার্জনের। এমনকি সে এ পর্যন্ত হারাম খাদ্য দ্বারাই জীবন ধারন করেছে। সুতরাং তার দোয়া কি ভাবে কবুল হবে?"। (মুসলিম) 

 রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "মানুষের খাদ্যের মধ্যে সেই খাদ্যই সবচেয়ে উত্তম যে খাদ্যের ব্যবস্থা সে নিজ হাতে কামাই- এর দ্বারা করে। আল্লাহর প্রিয় নবী হযরত দাউদ (আঃ) নিজ হাতের কামাই হতে খাদ্য গ্রহন করতেন"। (বুখারী)
হে আল্লাহ্‌ আমাদের সকলকে হারাম বস্ত হতে বেচে থাকার তৌফিক দান করুন, আমিন।  
********************
******************

Sunday, June 5, 2016

রোযা বা সিয়ামের সহী নিয়ম ও বিধান।

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
আল্লাহর নামে শুরু করছি।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতু। 
সকল প্রসংশা একমাত্র আল্লাহর জন্য। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উপর এবং তাঁর বংশধর, সহচর ও তাঁর বন্ধুদের উপর। 
রমযানের রোযা ইসলামের পাঁচটি মূল ভিত্তিসমূহের অন্যতম ভিত্তি। যার প্রমান নবী (সাঃ) এর বানী। তিনি বলেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি জিনিসের উপর রাখা হয়েছে। আর তা হল, এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ্‌ ব্যতীত সত্যিকারে কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত রাসূল। নামাজ আদায় করা, যাকাত প্রদান করা, বায়তুল্লাহ শরীফের হজ্জ পালন করা, এবং রমযান মাসে রোযা রাখা। (বুখারী ও মুসলি) আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে ফযর থেকে নিয়ে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, যৌন বাসনা পূরন ও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য থেকে বিরত থাকার নামই হলো সিয়াম/রোযা।আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা বলেনঃ
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيَ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلاَ يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُواْ الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُواْ اللّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তা’আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
মহান আল্লাহ বলেনঃ 
(يَأَيُّهَا الَّذِيْنَ آمََنُوْا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِيْنَ مِنْ قََبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ)
“হে ইমানদারগণ! তোমাদের উপর ছিয়াম (রোযা) ফরজ করা হয়েছে যেমনভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা পরহেজগার হতে পার। (সূরা বাকারাঃ ১৮৩)
বিস্তারিত জানতে ওয়াজটি শুনতে পারেন। 
বাংলা ওয়াজ মতিউর রহমান মাদানি।

রমযান মাসের মাহাত্ম্যঃ

আল্লাহ্ তা'আলা পবিত্র রমযান মাসকে এমন কিছু বৈশিষ্টে ও গুনে বিশেষিত করেছেন, যা অন্যান্য মাসে পাওয়া যায় না। আর এই মাসের গুন ও বৈশিষ্টের মধ্যে হলোঃ
১। ফেরেস্তাকুল রোযাদারের জন্য আল্লাহর নিকট হ্মমা প্রার্থনা করতে থাকেন যতহ্মন না সে ইফতার করে।
২। বিতাড়িত শয়তানকে এ মাসে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।
৩। এ মাসে রয়েছে একটি কদরের (সম্মানিত) রাত যা এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।
৪। রমযান মাসের শেষ রাত্রিতে সকল রোযাদারকে হ্মমা করা হয়।
৫। এ মাসে প্রত্যেক রাতে আল্লাহ্‌ তা'আলা অনেক মানষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন।
৬। এ মাসে একটি উমরার সাওয়াব একটি হজ্জের সমান।
নবী কারীম (সাঃ) কথিত অনেক বানী দ্বারাও এ মাসের ফযীলত ও গুন প্রকাশ পায়, যেমন তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস ও নেকির আশায় রমযান মাসের রোযা রাকবে, তার বিগত গুনাহসমূহ হ্মমা করে দেওয়া হবে"।(বুখারী ও মুসলিম) অন্য একটি হাদীসে বর্নিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "আদম সন্তানের প্রত্যেক সৎ কাজের বিনিময় দশ থেকে সাতশত গুন বৃদ্ধি করা হয়। মহান আল্লাহ্‌ বলেন, কিন্তু রোযা আমারই (আমার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে রেখেছে) তার প্রতিদান আমি নিজে দিব"।(ইবনে মাজাহ্)

রমযান প্রবেশের প্রমানঃ

www.bahadurhossen24.com
riyadh mousqe
দূটি জিনিসের যেকোন একটি দ্বারা রমযান প্রবেশের প্রমান হয়। যেমন, ১। রমযান মাসে চাঁদ দেখা। চাঁদ দেখা গেলেই রোযা ফরজ হয়ে যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, চাঁদ দেখে রোযা রাখবে এবং চাঁদ দেখেই রোযা ছাড়বে।(বুখারী ও মুসলিম) রমযানের চাঁদ দেখার প্রমানে একজন ন্যায়পরায়ন ব্যক্তির সাক্ষ্যই যথেষ্ট হবে। তবে রোযা ছাড়ার হ্মেত্রে শাওয়াল মাসের চাঁদের প্রমানে দুজন ন্যায়পরায়ন ব্যক্তির সাক্ষ্যি অত্যাবশ্যক।
২। সাবান মাসের ৩০দিন পূর্ণ করা। ৩০ দিন পূর্ণ করলে ৩১ দিনটাই রমযান মাসের প্রথম তারিখ হবে। কারন রাসূল (সাঃ) বলেন, "যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়, তাহলে সাবান মাসের ৩০দিন পূর্ণ করো"। (বুখারী-মুসলিম)

কাদের জন্য রোযা ছাড়া জায়েয? 

১। এমন রোগাক্রান্ত ব্যক্তি যার আরোগ্যের আশা করা যায়। তার উপর রোযা রাখা কষ্টকর হলে, ছেড়ে দেবে এবং পরে তা কাযা করবে। কারো ব্যাধি যদি চিরস্থায়ী হয় অর্থাৎ যার আরোগ্যের আশা না থাকে তবে, তার পক্ষে রোযা রাখা জরুরী নয়। সে প্রত্যেক রোযার পরিবর্তে একজন মিসকিনকে এক মুদ (৫৫০ গ্রাম) খাদ্যদ্রব্য দ্বারা খাওয়াবে।
২। মুসাফীরঃ মুসাফির বাড়ি থেকে যাওয়া থেকে নিয়ে পুনরায় বাড়ি প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত রোযা ছেড়ে দিতে পারবে। যে শহরে সফর করে গেছে সেখানে বহুদিন অবস্হান করলেও মুসাফির বলে গন্য হবে যতদিন তার এই নিয়ত থাকবে যে, উদ্দেশ্য সাধিত হওয়ার পর সেখানে আর অবস্হান করবে না। আর এই বিধান এমন সফরের হ্মেত্রে য়ার দূরত্ব ৮০ কিমিঃ ও তার উর্ধে হবে।
৩। গর্ববতী ও দুধ দানকারিনী মহিলারা নিজের ও সন্তানের উপর কোন হ্মতির আসংকা বোধ করলে রোযা ছেড়ে দিতে পারবে। অতঃপর কারন দূরীভূত হয়ে গেলে ত্যাগকৃত দিনগুলির রোযা কাযা করবে।
৪। যে বৃদ্ধ ব্যক্তির উপর রোযা রাখা কষ্টকর হবে, সে রোযা ছেড়ে দিবে এবং তাকে কাযাও করতে হবে না। তবে প্রত্যেক দিন একজন মিসকিন খাওয়াবে।

রোযা নষ্টকারী বস্তসমূহঃ 

১। ইচ্ছাকৃত পানাহার করা, তবে ভূলক্রমে কোন কিছু পানাহার করে ফেললে, তা রোযার উপর কোন প্রভাব সৃষ্টি করবে না। কারন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি ভূলক্রমে পানাহার করলো, সে যেন তার রোযা পূর্ণ করে"। (মুসলিম) নাকের মাধ্যমে পানি পেটে প্রবেশ করলে, কোন বিকল্প পদ্ধতিতে খাদ্য গ্রহন করলে ও প্রয়োজনে শরীরে রক্ত প্রবেশ করালে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। কারন এ সবই রোযাদারের জন্য খাদ্য বলে গন্য।
২। যৌনবাসনা পূরন করা, যখনই কোন ব্যক্তি তার স্ত্রী সাথে যৌনবাসনা পূরন করবে, তার রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। তার উপর কাযা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হবে। কাফফারা হলো কোন ক্রীত দাস-দাসী স্বাধীন করা, তা না পেলে একাধারে দু'মাস রোযা রাখা। কোন শরিয়াতী কারন যেমন, দু'ঈদের দিন ও আয়্যামে তাশরীক (জিল হজ্জ মাসের ১১,১২ ও ১৩ তারিখ) এ রোয়া রাখা অথবা মানসিক কারন যেমন, রোগ-ব্যাধি এবং রোযা না ছাড়ার উদ্দেশ্যে সফর করা ইত্যাদি ব্যতীত এ দু'মাসের কোন এক দিনও রোযা ত্যাগ করা যাবে না। কোন কারন ব্যতীত এক দিনও যদি রোযা বাদ দেয়, তাহলে পূনরায় নতুন ভাবে প্রথম থেকে রোযা রাখতে হবে। কারন এতে ধারাবাহিকতা অপরিহার্য। যদি দু'মাস রোযা রাখতে অহ্মম হয়, তাহলে ৬০ জন মিসকিনকে খাওয়াবে।
৩। জাগ্রত অবস্হায় হস্তমৈথুন অথবা স্ত্রীকে স্পর্শ ও চুম্বন করার কারনে বির্যপাত ঘটলে, রোযা নষ্ট হয়ে যাবে এবং তার উপর কাযা ওয়াজিব হবে কাফফারা নয়। তবে স্বপ্নদোষে রোযা নষ্ট হয় না।
৪। সিঙ্গীর মাধ্যমে শরীর থেকে দূষীত রক্ত বের করলে, কিংবা দানের উদ্দেশ্যে বের করলে রোয়া নষ্ট হয়ে যাবে। তবে স্বল্প পরিমান রক্ত বের কর যেমন, পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে বের করলে, তাতে রোযা নষ্ট হয় না। অনুরুপ নাকের রক্ত প্রবাহের রোগ ও দাত উপড়ে ফেলার কারনে রক্ত বের হলে রোযা নষ্ট হবে না।
৫। ইচ্ছাকৃত বমি করলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। অনিচ্ছাকৃত হলে নয়।
উপরোক্ত রোযা নষ্টকারী বস্তুসমূহের দ্বারা তখনই রোযাদারের রোযা নষ্ট হবে, যখন সে জেনে শুনে ইচ্ছাকৃত ভাবে তা গ্রহন করবে। কিন্তু যদি সে এ সম্পর্কীয় শরিয়তী বিধানের ব্যাপারে অজ্ঞ হয় অথবা ফজর উদিত হয়েছে কি না ও সূর্যাস্ত হয়েছে কি না ইত্যাদি ব্যাপারে সন্দেহ করতঃ কোন কিছু গ্রহন করে, তাহলে তার রোযা নষ্ট হয় না। অনুরুপ উক্ত বস্তু নিজ ইখতিয়ারে গ্রহন করতে হবে। নিরুপায় বা বাধ্যতামূলক ভাবে গ্রহন করলে, রোযা নষ্ট হবে না বরং তার রোযা বিশুদ্ধ বলে গন্য হবে এবং তাকে কাযাও করতে হবে না।
৬। হায়েজ (মাসিক রক্ত স্রাব) ও নেফাস (প্রসবোত্তর রক্ত স্রাব) বের হওয়াও রোযা নষ্টকারী বস্তুর অন্তর্ভুক্ত। রক্ত দেখার সাথে সাথেই মহিলাদের রোযা নষ্ট হয়ে যায়। অনুরুপ হায়েজ ও নেফাস অবস্হায় নারীদের রোযা রাখা হারাম। তারা রমযানের পর ত্যাগকৃত রোযা কাযা করবে।

রোযার সুন্নাতঃ

১। সেহরী খাওয়া,  কারন রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "সেহরী খাও; কেননা সেহরীতে বরকত নিহিত আছে"। (বুখারী ও মুসলিম) শেষ রাত্রি পর্যন্ত বিলম্ব করে সেহরী খাওয়াও সুন্নাত। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যতক্ষন পর্যন্ত আমার উম্মাত ইফতারীতে তাড়াতাড়ি ও সেহরীতে বিলম্ব করবে ততক্ষন পর্যন্ত তারা ভালর মধ্যেই থাকবে।
২। সূর্যাস্তের পর পরই শীঘ্র ইফতার করা। সদ্যপাকা খেজুর দিয়ে ইফতার করা সুন্নাত। তা না পেলে শুষ্ক খেজুর, গা না পেলে পানি দিয়ে, যদি এসবের কিছুই না পায় তাহলে হালাল খাদ্য যা পাবে তাই দিয়ে ইফতার করবে।
৩। রোযা রাখা অবস্হায় বেশি বেশি দোয়া করা বিশেষ করে ইফতারীর সময়। কারন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, " তিন প্রকারের দোয়া গ্রহন যোগ্য হয়, রোযাদারের দোয়া, অত্যাচারীত ব্যক্তির দোযা, এবং মুসাফিরের দোয়া"। (বায়হাক্বী) রোযাদারের উচিত রমজান মাসে (আল্লাহর এবাদতের লক্ষে) রাত্রি জাগরন করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস ও নেকীর আশায় রমজান মাসে রাত্রি জাগরন করে, তার বিগত সমস্ত গুনাহকে ক্ষমা করা হয়"। (বুখারী ও মুসলিম) তাই সকল মুসলমানের উচিত ইমামের সাথে তারাবীর নামাজ আদায় করা। কেননা রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "যে ব্যক্তি ইমামের সাথে নামাজে দাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত তার সাথে থাকে, তার (নেকীর খাতায়) পূর্ণ একরাত্রির এবাদতের সাওয়াব লিপিবদ্ধ করে দেওয়া হয়"। (তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসায়ী) রমজান মাসে বেশি বেশি দান করাও উচিত। কেননা রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "সর্ভোত্তম সাদকা হলো রমজান মাসের সাদকা"। (তিরমিযী) অনুরুপ ভাবে রমজান মাসে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াতের যত্ন নেওয়া দরকার। কারন রমজান মাস কোরআনের মাস। কোরআন তেলাওয়াতকারীর জন্য রয়েছে প্রত্যক অক্ষরের পরিবর্তে নেকী। আর সে নেকী এক থেকে দশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।

তারাবীর নামাজঃ

রমজান মাসের রাত্রে জামা'আত বদ্ধভাবে কিয়াম করার নামই হচ্ছে তারাবীহ। তারাবীর সময় হলো এশার পর থেকে নিয়ে ফজর উদিত হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত। নবী কারীম (সাঃ) তারাবীর নামাজ আদায় করার ব্যাপারে দারুনভাবে উৎসাহিত করেছেন। (সঠিক মত অনুযায়ী) তারাবীহ্ নামাজের সংখ্যা হলো, ১১ রাক'আত। প্রত্যেক দু' রাক'আতে সালাম ফিরানো সুন্নাত। ১১রাক'আতের অধিক পড়াতেও দোষ নেই। তারাবীহ নামাজে ধীরস্হিরতা অবলম্বন করা এবং নামাজকে এতটা লম্বা করা সুন্নাত যাতে মুসল্লীদের কোন প্রকার অসুবিধা না হয়। ফিৎনার আশংকা না থাকলে মহিলারাও তারাবীর নামাজে উপস্হিত হতে পারবে। তবে শর্ত হলো, পর্দা বজায় রেখে, সৌন্দর্য প্রদর্শন থেকে বিরত থেকে ও সুগন্ধি ব্যবহার না করে বের হতে হবে।

যে দিনে রোযা রাখা হারামঃ

১। দু'ঈদে অর্থাৎ, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিনে।
২। আয়্যামে তাশরীকে অর্থাৎ, যিলহজ্জ মাসের ১১, ১২, ও ১৩ তারিখে। তবে কেরান অথবা তামাত্তো হজ্জকারী যদি কোরবানির পশু না পায়, তাহলে তারা উক্ত বিধানেরর আওতায় আসবে না। (অর্থাৎ, তারা আয়্যামে তাশরীকে রোজা রাখতে পারবে)
৩। হায়েজ ও নেফাসের দিনগুলিতে রোজা রাখা।
৪। স্বামীর উপস্হিতিতে তার অনুমতি ব্যতীত রোজা রাখা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "স্বামীর উপস্হিতিতে কোন স্ত্রী তার অনুমতি ছাড়া রমযান ব্যতীত অন্য কোন রোজা রাখতে পারে না"। (বুখারী ও মুসলিম)